এতে দেশটির বার্ষিক রাজস্বে ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ কোটি ডলার ক্ষতি হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। মূলত চীন থেকে আসা পণ্যের সামান্য পরিবর্তন, নতুন লেবেল লাগানো বা নতুন করে প্যাকেটজাত করে শুল্ক ফাঁকি দেয়ার কৌশলকে বলা হয় ট্রান্সশিপমেন্ট। খবর রয়টার্স।
হোয়াইট হাউজের বাণিজ্য ও উৎপাদনবিষয়ক উপদেষ্টা পিটার নাভারো এ প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। প্রতিবেদনে অবৈধ ট্রান্সশিপমেন্টের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উৎস হিসেবে প্রায় ৪০টি দেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ভারতকে চীনের অন্যতম প্রধান সহায়তাকারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করে শীর্ষ ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারত, মেক্সিকো ও ভিয়েতনামের মাধ্যমে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আনুমানিক ৬ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের পণ্য পাঠানো হয়েছে। শুধু এ বাণিজ্যের কারণেই ওয়াশিংটন প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের শুল্ক রাজস্ব হারিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনা চলাকালীন এমন গুরুতর অভিযোগ সামনে এল। তবে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীন দূতাবাস এ প্রতিবেদনের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে দূতাবাসটির মুখপাত্র জানান, চীনের স্বার্থ ক্ষুণ্ন বা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত করে, এমন কোনো পদক্ষেপের সরাসরি বিরোধিতা করে বেইজিং। পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের বৈধ অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে চীন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্য দেশের মাধ্যমে চীনা পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোয় বার্ষিক ক্ষতির মোট পরিমাণ ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৩০ হাজার ৩০০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে। ফলে বছরে মার্কিন অর্থনীতিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় সাড়ে চার লাখ কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বাণিজ্য বিধিনিষেধের কারণে ২০২৫ সালে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি আমদানি কমে ৩০ হাজার ৮৭০ কোটি ডলারে নেমে আসে, যা ১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে একই সময়ে মেক্সিকো ও ভিয়েতনাম থেকে আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শুল্ক এড়াতে এ পথ পরিবর্তন ঠেকাতে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করছে মার্কিন শুল্ক বিভাগ।